মিল্লি গরুশ আন্দোলন

ইতিহাস ইসলাম গাইড

আজ থেকে ৫০ বছর পূর্বে মিল্লি গরুশ আন্দোলন তুরস্কের ভূমিতে আওয়াজ তুলেছিল আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করা জন্য, পরবর্তীতে তা পরিণত হয়েছিল গণদাবীতে। 
আয়া সোফিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে দৃপ্ত কন্ঠে প্রফেসর এরবাকান ৭০ এর দশকে স্লোগান তুলেছিলেন- 
“জিঞ্জিরসমূহ ভেঙ্গে দাও, 
আয়া সোফিয়া খুলে দাও”।

এই স্লোগান যেন পুরো তুর্কির মাটিকে বারুদে লাভায় পরিণত করেছিল। যখন তুর্কির মাটি থেকে ইসলামী ঐতিহ্য প্রায় মুছে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই প্রফেসর এরবাকান ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতীকসমূহকে জনগণের মানসপটে পুনরায় উজ্জীবিত করে দিয়েছিলেন। স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন ইসলামের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাসকে। 

প্রফেসর নাজমুদ্দিন এরবাকান সেদিন আয়া সোফিয়ার সামনে দাড়িয়ে দৃপ্তকন্ঠে বলেছিলেন- “টিকেট কেটে নয় বরং অযু করে নামায আদায়ের জন্য আয়া সোফিয়ায় প্রবেশ করতে চাই”।

প্রফেসর এরবাকানের ভাষায়- “আয়া সোফিয়া সাধারণ কোন মসজিদ নয়। এটি বাতিলের উপর হক্বের বিজয়ের প্রতীক”। 

৫০ বছরের এই দীর্ঘ সংগ্রাম বর্তমান সময়ে তুরস্কের সকল রাজনৈতিক দলকে আয়া সোফিয়ার ব্যাপারে একই প্লাটফর্মে দাড় করাতে বাধ্য করেছে। তাই আজ বিরোধীদল থেকে জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার দাবী তুলা হয় এবং সবশেষে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সেই দাবীকে সাড়া দিয়ে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার উদ্যোগ নিলেন। 

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার জন্য দীর্ঘ ৫০ বছর থেকে যারা সংগ্রাম করে আসছিলেন তাদেরকে এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।।
যারা এই মহৎ কাজের উসিলা হয়েছেন তাদের সকলের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।