ইসলামী সভ্যতা মানবতার জন্য কি এনেছে? কি দিয়েছে?

ইতিহাস ইসলাম গাইড

মানব সভ্যতার ইতিহাসকে যদি খুব ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে এক সভ্যতা আরেক সভ্যতা দ্বারা অনেক বেশী প্রভাবিত। বিশেষ করে ‘শক্তি’ র উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সভ্যতা সমূহের নাম আলাদা হলেও তাদের মূলনীতি সমূহ ছিল এক ও অভিন্ন। তাদের সভ্যতার মূলে ছিল শোষণ ও জুলুম।।

কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত হল ইসলামী সভ্যতা। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লব ছিল ইসলামী বিপ্লব, যা সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদ (সঃ) এর নেতৃত্বে হয়েছিল। এই বিপ্লব ছিল এমন এক বিপ্লব যা সকল নিয়ম নীতিকে পাল্টে দিয়ে সংগঠিত হয়েছিল এবং যার প্রভাবে সমগ্র পৃথিবী নতুন করে সেজেছিল।

ইসলামী সভ্যতা মানবতার জন্য কি এনেছে? কি দিয়েছে? আমি এর কয়েকটি এখানে উল্লেখ করতে চাইঃ

১। মানবাধিকার।
সত্যিকারের মানবাধিকারের প্রবক্তা হল ইসলামী সভ্যতা। ইসলামী সভ্যতাই প্রথম মানুষকে মানবাধিকারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে পাশ্চাত্যের ধ্বজাধারীরা এর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে আংশিকভাবে একে গ্রহণ করলেও তাদের পন্থা ও ব্যবস্থা ফেরাউনী ব্যবস্থা তথা জুলুম তান্ত্রিক হওয়ার কারণে এই মানবাধিকারের ধারণার মধ্যকার মৌলিকত্বকে নষ্ট করে দেয় তথা degenerate করে ফেলে। আজকে সকল সমস্যার মূলে রয়েছে তাদের এই degeneration।

ইসলামের কাছ থেকে নেয় এবং প্রভাবিত হয় কিন্তু সেটাকে নষ্ট করে জুলুমে রূপান্তর করে।

দেখুন মানবাধিকার রক্ষা করার নামে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেছে কিন্তু এই জাতিসংঘে অন্যায় ভাবে ‘ভেটো পাওয়ার’ নামে একটা ধারা যুক্ত করে দিয়েছে। আমি এটাকে বলি ফেরাউনী ধারা।

এই ফেরাউনী ধারাকে ব্যবহার করে যা ইচ্ছা তাই করে।

ইসলামের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে কিন্তু Degenerate করে ফেলেছে।

২। শোষনের বিলুপ সাধনঃ
মানুষকে শোষণ থেকে মুক্ত করার বিধান এনেছে ইসলামী সভ্যতা। এখানে থেকে ইলহাম নিয়ে কম্যুনিজম প্রতিষ্ঠা করে। মানুষকে শোষণ থেকে মুক্ত করব এই কথার নামে তারা মানুষকে রাজনৈতিক শক্তির দাস বানিয়ে মানুষকে রাজনৈতিক শক্তির শোষণের শিকার বানিয়েছে। কারণ তাদের মূলে রয়েছে ‘শক্তি’। শক্তিকে তারা শ্রেষ্ঠত্বের মানদন্ড মনে করে থাকে।

৩। মুক্তবাজার অর্থনীতিঃ
মুক্তবাজার অর্থনীতির ধরণা দিয়েছে ইসলাম। রাসূল (সঃ) সর্ব প্রথম মদিনার বাজারে এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সকলেই তার ইচ্ছামত ও মর্জিমত ক্রয় বিক্রয় করবে।
এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পাশ্চাত্য পুঁজিবাদ (ক্যাপিটালিজম) এর প্রবর্তন করে। কিন্তু শক্তির পূজারী হওয়ার কারণে ও শক্তিকে তারা শ্রেষ্ঠত্বের মানদন্ড মনে করার কারণে মনোপলি (একচেটিয়া), পূঁজিপতিদের শোষণের হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছে।

৪। চুক্তির স্বাধীনতাঃ
ইসলাম মানুষকে ন্যায়ের ভিত্তিতে চুক্তি করার স্বাধীনতা দিয়েছে।

পাশ্চাত্য ভূমি আইন, বিয়ে শাদী ইত্যাদিতে কিছু আইন প্রবর্তন করেছে এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু আইন প্রবর্তন করেছে। কিন্তু এই স্বাধীনতাকে পরিপূর্ণভাবে মানুষকে সামগ্রিকভাবে দিতে পারেনি। সমাজের সকল ক্ষেত্রে মানুষের যে স্বাধীনতা রয়েছে সেই স্বাধীনতা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করেছে।

৫। ইসলামে সামাজিক কাঠামোতে আপোষ রফা রয়েছে। পাশ্চাত্যের ধারকরা মুসলমানদের প্রভাবে তাদের প্রাচীন Feudalism
এর স্থলে কোয়ালিশন গঠন করার পর্যায়ে চলে আসে। কিন্তু এটাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কর্তৃত্বের অধীনে এবং রাষ্ট্রের সকল শক্তিকে কুক্ষিগতকারী আমলাতন্ত্র বা ব্যুরোক্রেসিতে রূপান্তরিত করে পুনরায় ফেরাউনিজমে (জুলুমতন্ত্রে) পরিণত করে।

( মিল্লি গরুশ আন্দোলনের নেতা ও তুরস্কের সাবেক প্রধান মন্ত্রী প্রফেসর ডঃ নাজমুদ্দিন এরবাকানের ‘ইসলামে জ্ঞানের ধারা ও জ্ঞানপদ্ধতি’ নামক কনফারেন্স থেকে অনূদিত) See Less— with Enver Bıyıklı.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।