ইসলামী সভ্যতায় ইবাদতগাহের বিধান ও আয়াসোফিয়া

ইসলাম গাইড

আয়াসোফিয়া, মানব সভ্যতার ইতিহাস, ধর্ম ও সভ্যতা সমূহের ইতিহাস এবং একই সাথে ইসলাম ও তুরস্কের ইতিহাসের দিক থেকে ঐতিহাসিক এক মর্যাদার দাবীদার। এই কারণে দীর্ঘ ৮৬ বছর বিরতীর পর এই ঐতিহাসিক স্থানটির পুনরায় তার আসল প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়ায়, পুনরায় মু’মিনদের সিজদায় স্থলে পরিণত হওয়ায়, প্রত্যাশিত ভাবেই প্রাচ্য ও প্রতীচ্য সহ সমগ্র দুনিয়ায় অনেক বড় একটি প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করেছে। 
আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিস্থান সমূহ আলাদা আলাদাভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্য সমূহ ও প্রতিক্রিয়া সমূহ ভিন্ন একটি বিষয় হওয়ায় আমি সেই বিষয়ের উপর কোন আলোচনা করতে চাই না। 

তবে বিশেষ ভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের পাশাপাশি অর্থোডক্স এবং ক্যাথোলিকরা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোন থেকে এই বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করেছেন। অর্থোডক্স বিশ্বের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউ কেউ যখন এটাকে মধ্য যুগে ফিরে যাওয়া বলে অভিহিত করছেন তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ এটাকে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মধ্যকার নতুন সংঘাত বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ আবার এটাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। ক্যাথলিকদের আধ্যাত্মিক নেতা, পোপ ফ্রান্সিস ১২ জুলাই এক বিবৃতিতে বলেন, “ আমার আকল আমাকে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছে, আয়াসোফিয়ার কথা চিন্তা করছি এবং অনেক ব্যথা অনুভব করছি”। এই সকল প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি কম হলেও কিছু পজিটিভ বক্তব্যও এসেছে।

এই সকল প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে আমাদের মনের অজান্তেই কিছু প্রশ্ন জেগে উঠে। 

আয়া সোফিয়া মধ্য যুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে নবযুগের সঞ্চারের জন্য ওসিলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এই আয়াসোফিয়া দীর্ঘ ৫০০ শত বছর ইসলামের ইবাদতগাহ হিসেবে মূলত তার মূলে ফিরে গিয়েছিল, তাহলে কেন এমন একটি বিষয়কে মধ্য যুগে ফিরে যাওয়া বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। 

এর ভেতরে এক আল্লাহর ইবাদত করাকে কেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে নতুন একটি সংঘাতের সূচনা বিন্দু হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে? 
মিউজিয়াম থেকে পুনরায় ইবাদতগাহে রূপান্তর করা কোন অর্থে ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে?

এই অসাধারণ আয়া সোফিয়াকে পায়ে মাড়ানো ট্যুরিজমের স্থান থেকে মুক্ত করে মু’মিনদের পবিত্র কপাল রাখার একটি জায়গায় রূপান্তর করাটা কেন পোপ ফ্রান্সিসকে ব্যথিত করেছে? 

পাঁচশত বছর ধরে যে স্থানটি মসজিদ হিসেবে ছিল সেই মসজিদকে কেন জাদুঘরে রূপান্তর করার সিধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটাকে সবাই পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য আজকের সিধান্তকে প্রশ্নবিদ্দ করা হচ্ছে। এই দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে পাশ্চাত্য থেকে আজ যে প্রতিক্রিয়া আসছে সেগুলোর শক্তিশালী কোন ভিত্তি নেই। তবে যারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তাদের দৃষ্টিকোনকে বিবেচনায় নিলে এই বিষয়কে একটি মাত্রা পর্যন্ত বুঝা সম্ভব। 

তবে, আমাদের যেই বিষয়টি বুঝতে সবচেয়ে বেশী কষ্ট হচ্ছে সেটি হল পাশ্চাত্যের চেয়েও বেশী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মুসলিম বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি! যাদের প্রতিক্রিয়ার ভাষা পাশ্চাত্যের চেয়েও বেশী ধারালো!! যে অবস্থায় কিংবা যেই দৃষ্টিকোন থেকেই হোক না কেন এটি আমাদের মাথায় ধরছে না, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তি কেন এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন?? এটা বুঝা সম্ভব নয়। আরো আশ্চর্যের বিষয় হল, এই সকল প্রতিক্রিয়া এবং বিবৃতি দিয়েছে কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি নয়, আলেমগণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ! আরো একটি দুঃখজনক বিষয় হল, রাজনীতিবিদগণের নিজস্ব রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক অনুযোগ ও অভিযোগ সমূহ কোন কোন আলেমদেরকে দিয়ে বলানো। বিশেষ করে ঐতিহাসিকভাবে জ্ঞানের পতাকাবাহী হিসেবে সমগ্র বিশ্বে পরিচিতি লাভকারী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমগণের বিবৃতি, প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য সমূহ; মুসলিম উম্মাহর জ্ঞান, শক্তি এবং ক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্ঞানের মর্যাদা ও সম্মান এর অবস্থান কোথায় এসে উপনিত হয়েছে সেই দৃষ্টিকোন থেকে খুবই হতাশাজনক। আজহারের কোন কোন শিক্ষক তো বলেই ফেলেছেন আয়া সোফিয়াকে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আত্মসাত কৃত ইবাদত গাহে নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়। ইতিহাস, দ্বীন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে ন্যূনতমও জ্ঞান এদের নেই। যদি থাকত তাহলে এই ধরণের মূর্খতাসুলভ কথা বলত না। তাদের এই ধরণের কথা বার্তা তাদের অবস্থানকে আমাদের সামনে পরিষ্কার করেছে। 

এই সকল কারণে এই বিতর্ক নিয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য থেকে আসা কিছু কিছু প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের আজকের এই আলোচনায় ইসলামী সভ্যতায় ইবাদত গাহের বিধান এবং এই বিধানের মূলনীতি এবং আইন কানুন সম্পর্কে আলোচনা করব।

সম্মানিত ভাই ও বোনেরা, 
ইবাদত গাহের বিধান, ইসলামের জন্য নির্দিষ্ট। আমাদের দ্বীনের সবচেয়ে গৌরবজনক বিষয় সমূহের মধ্যে একটি। এই বিধানের (আইনের) সবচেয়ে মৌলিক মূলনীতি হল, ইবাদতগাহ সমূহের অস্পৃশ্যতা। যা আমাদের সভ্যতায় মাসুনিয়াতু মা’বাদ তথা ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchable ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

হা, মাঝে মধ্যে শাসকদের কারণে এর ব্যাতয় ঘটলেও ইসলামী সভ্যতায় অন্যান্য অনেক সভ্যতার বিপরীতে আবশ্যকীয়তা সমূহের বাহিরে {যা ব্যতিক্রম} অন্য ধর্মের ইবাদতগাহ সমূহে কক্ষনোই স্পর্শও করা হয়নি। যুদ্ধা কিংবা শান্তি যে অবস্থায় হোক না কেন মুসলমানগণ তাদের চুক্তির দাবী অনুযায়ী, একটি আইনের অধীনে ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchable ) কে সব সময় নিরাপত্ত্বার অধীনে নিয়ে এসেছে। সেইগুলোকে ধারাহিকতা দান করেছে এবং যে যেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী তার সেই বিশ্বাসের আলোকে সে যেন স্বাধীন ভাবে ইবাদত করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা দিয়েছে। 

তবে মাঝে মধ্যে জনগনের ইসলাম গ্রহণ করার ফলে অথবা দল বেঁধে অন্য তাদের অন্য স্থানে চলে যাওয়ার ফলে কিংবা মাঝে মধ্যে ব্যতিক্রম কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থান সমূহকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু চৌদ্দশত বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও মুসলিম দেশ সমূহের বড় বড় শহর সমূহে হাজার হাজার সিনাগগ, গির্জা, প্যাগোডা ও মন্দির রয়েছে। এগুলোকে ইসলামী সভ্যতার ‘ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchability)’ র জীবন্ত স্বাক্ষী হিসেবে আমাদের সামনে রয়েছে। আমরা যদি আন্দালুসিয়াকে বিশ্লেষণ করি তাহলে ইসলামী সভ্যতার এই মূলনীতির হাকিকতকে আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারব। যেই আন্দালুসিয়াতে মুসলমানগণ দীর্ঘ ৮ শত বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিল, আজ সেখানে কি অবস্থা? আমরা যে সেখানে কত কিছু হারিয়েছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। এই কারণে ইসলামের বিজায়াভিযান সমূহকে ক্রুসেডারদের দখল এবং মঙ্গোলদের আক্রমনের সাথে তুলনা করা অনেক বড় একটি ভুল।

মহাগ্রন্থ আল কোরআন যেমন কোন ইবাদতগাহের বিনাশ বা ধ্বংসকে ইলাহি ইচ্ছার বিরোধী বলে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছে। একটি আয়াতে অন্য ধর্মের ইবাদতগাহের নাম সমূহকেও উল্লেখ করে এই হাকিকতকে এইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, 

وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا
অর্থঃযদি আল্লাহ লোকদেরকে একের মাধ্যমে অন্যকে প্রতিহত করার ব্যবস্থা না করতেন, তাহলে যেখানে আল্লাহর নাম বেশী করে উচ্চারণ করা হয় সেসব আশ্রম, গীর্জা, ইবাদাতখানা ও মসজিদ ধ্বংস করে দেয়া হতো৷” (সূরা হজ্জ-৪০) 

রাসুলে আকরাম (সঃ) ও কোরআনের আলোকে ইবাদতগাহের হুকুম সমূহকে নিজে বাস্তবায়িত করেছেন এবং সাহাবীদেরকে দিয়ে বাস্তবায়িত করিয়েছেন। নাজরানের খৃষ্টানদের সাথে রাসূলে আকরাম (সঃ) যে চুক্তি করেছিলেন, সেই চুক্তিটি হল ইবাদতগাহের যে হুকুম বা বিধান রয়েছে সেই হুকুমের প্রথম বাস্তবায়ন। রাসূল (সঃ) সেই চুক্তিতে নাজরানবাসীকে তাদের গির্জা ও আশ্রম সমূহের এবং পাদ্রীদের কেন্দ্রস্থল সমূহকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। তাদের ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। খায়বারকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করার পরেও ইয়াহুদিদের ইবাদতের স্থান সমূহকে স্পর্শও করেননি। যে সকল সৈন্যকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন তাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, অন্য ধর্মের ইবাদতগাহ সমূহকে ধ্বংস করবে না, সেই সকল ইবাদতগাহে ইবাদতরত রূহবানদেরকে স্পর্শও করবে না। 

প্রিয় ভাইয়েরা, 
রাসূল (সঃ) এর পরে ইবাদতগাহের বিধানের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ দেখিয়েছেন হযরত উমর (রাঃ)। ইসলামের অনেক অনেক বড় বড় বিজয়াভিযান তার সময়ে পরিচালিত হয়েছিল। 
হযরত উমর (রাঃ) বাইতুল মাকদিসকে শান্তির মাধ্যমে বিজয় করার কারণে Church of the Holy Sepulchre কে মসজিদে রুপান্তর করা তো দূরে থাকুক “ আমি যদি এখানে নামাজ আদায় করি তাহলে আমার পরের মুসলমানগণ এটাকে মসজিদে রূপান্তর করবে” এই কথা বলে এই চার্চের ভেতরে তিনি নামাজ পর্যন্ত আদায় করেননি। একই উমর (রাঃ) যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়কৃত শাম, ইরাক, ইরানের মত অন্যান্য অঞ্চলের শহরের সবচেয়ে বড় সিম্বলিক ইবাদতগাহ সমূহকে মসজিদে রূপান্তর করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি। ইবাদতগাহ সমূহের অস্পৃশ্যতাকে খুব সতর্কতার সাথে বাস্তবায়ন করেছেন; শামের পূর্ব ফ্রন্টকে যুদ্ধের মাধ্যমে এবং পশ্চিম ফ্রন্টকে শান্তির মাধ্যমে বিজয় করেছেন বলে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) এর নামে নির্মিত আযিয ইউহান্না গির্জার পূর্ব পাশের অর্ধেককে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশের অর্ধেককে গির্জা হিসেবে যৌথভাবে ব্যবহার করার জন্য খুলে দেন। 
মুয়াবিয়া (রাঃ) খলিফা হলে ইউহান্না গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে চান, কিন্তু খৃষ্টানদের বিরোধিতার কারণে তিনি এই সিধান্ত থেকে ফিরে আসেন। আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান এই জন্য খৃষ্টানদেরকে অনেক অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু তাদের ১৪ টি গির্জা থাকার পরেও তাদের এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে খলিফা ওয়ালিদ জোরপূর্বক তাদের এই গির্জাকে ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযিয খলিফা হলে খৃষ্টানদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসলামী সভ্যতার ইবাদতগাহের হুকুমকে বাস্তবায়ন করেন এবং মসজিদে রূপান্তরকৃত ও অন্তর্ভুক্তকৃত চার্চ (গির্জা) সমূহকে পুনঃরায় খ্রিস্টানদেরকে ফিরিয়ে দেন। 

প্রিয় ভাইয়েরা, 
ইসলামী চিন্তায় বিভিন্ন ধারা ও বিভিন্ন বিশ্লেষণ থাকলেও ইসলামের ফিকহের মক্তব সমূহ, কোরআন ও সুন্নত কর্তৃক নির্ধারিত বিধান অনুসারে ‘ইবাদতগাহের অস্পৃশ্যতা (untouchability)’ র ব্যপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। সেগুলোকে রক্ষা করা এবং নতুন করে নির্মাণের ব্যপারে চিন্তাগত দিক থেকে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। 
আব্বাসী খলিফা হারুনুর রশিদ, তার প্রধান বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফকে যিম্মিদের গির্জা ও আশ্রম সমূহের হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ইমাম আবু ইউসুফ, খুলাফায়ে রাশিদীনের সময়কাল থেকে উদাহরণ দিয়ে ‘ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchability)’ র বিষয়টি খলিফাকে জানিয়ে দেন। 

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, 
ইসলামী সভ্যতায় ইবাদতগাহের বিধান হল যদি শান্তি স্থাপনের মাধ্যমে কোন অঞ্চল বিজিত হয় তাহলে সেখানের ‘ইবাদত গাহের অস্পৃশ্য (untouchable)’। এর কোন ধরণের ব্যতিক্রম নেই। এই জন্য মুসলমানগণ শান্তি স্থাপনের মাধ্যমে যে সকল অঞ্চল বিজয় করেছে সেই সকল অঞ্চলের কোন ইবাদতগাহকে স্পর্শও করেনি। যুদ্ধের মাধ্যমে যে সকল অঞ্চলে বিজয় করেছে সেই সকল অঞ্চলের ইবাদতের স্থান সমূহও অস্পৃশ্য হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি এই সকল বিষয়ে কিছু কিছু ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে। এর আলোকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত শহরের সিম্বলিক অর্থবহনকারী সবচেয়ে বড় ইবাদতগাহ সমূহকে ধর্মীয় ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে অথবা সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে মসজিদে রূপান্তর করণ, একটি আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। শামের উমাইয়া মসজিদ, কর্ডোভা মসজিদ, এবং আয়াসোফিয়া মসজিদ এর অন্যতম উদাহরণ। মুসলমানগণ যে সকল অঞ্চলকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করেছেন সেই সকল অঞ্চলে এই বিধানকে মানার ক্ষেত্রে দৃঢ় সংকল্প ছিলেন। এই বিধানের ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমান আপোষ করেননি। যেমন একটু আগেও বলা হয়েছে, শামকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করলে সেখানের ১৪টি গির্জার মধ্যে শুধুমাত্র সিম্বলিক গুরুত্বের অধিকারী ইউহান্না গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করেছিলেন। অন্য ১৩ টি তে স্পর্শও করেননি। 

এখানে যে বিষয়টিকে গুরুত্ত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে সেই বিষয়টি হল, মসজিদে রূপান্তর করার বিষয়টি, যেমনটা ধারণা করা হয়ে থাকে তলোয়ারের মাধ্যমে নয় আইনের মাধ্যমে এবং পারস্পারিক চুক্তির মাধ্যমে করা হয়েছে। মুসলমানগণ যে সকল অঞ্চলকে বিজয় করেছেন সেই সকল অঞ্চলে ইবাদতগাহ সমূহকে মসজিদে রুপান্তরের বিষয়টি মুতলাকভাবে পারস্পারিক চুক্তির মাধ্যমে করেছেন। জোর করে কিংবা তলোয়ারের ভয় দেখিয়ে নয় আইনের মাধ্যমে এই বিষয়টির নিষ্পত্তি করেছেন। 

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
মুসলমানগণ তাদের শাসনাধীন অঞ্চল সমূহের ইবাদত গাহ সমূহের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অস্পৃশ্যতার নীতিই অবলম্বন করেননি। একই সাথে এই স্থান সমূহকে রক্ষণাবেক্ষণকেউ অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। খুব বেশী দরকার না হলে এই সকল স্থাপনায় হাত লাগাননি। এর আসল সৌন্দর্যকে রক্ষার ব্যপারে অনেক যত্নবান ছিলেন, এই সকল ইবাদতগাহের মেরামতের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সাহায্যও দিয়েছেন। যেমন মসজিদে রূপান্তরকৃত ইবাদতগাহ সমূহকে কিবালামুখী করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের ক্ষেত্রেও যতটুকু প্রয়োজন এই সকল ইবাদতগাহের স্থাপনায় ততটুকুই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ), ইসলামের ইতিহাসের প্রথম দিকে মাদায়েনকে বিজয় করে কিসরার রাজ প্রসাদকে মসজিদে রূপান্তর করেন। কিন্তু এর ভেতরে প্লাসটারের তৈরি ফিগার সমূহে স্পর্শও করেননি। এমনকি এগুলো দুইশত বছর পর্যন্ত সেই ভাবেই মজবুত অবস্থায় টিকে ছিল। ইরানের এসতাখর শহরে অবস্থিত অগ্নিপূজার একটি স্থানকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়, কিন্তু পিলারে অঙ্কিত ছবি সমূহে হাতও লাগাননি। যেমনটি আয়াসোফিয়ার কিবলার দিকে অঙ্কিত দুই একটি ছবি ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন একটি ছবিতেও হাত দেওয়া হয়নি। মুসলমানগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফুসতাত, বসরা, বাগদাদের মত শহর সমূহেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রজাদের জন্য ইবাদতগাহ নির্মাণ করেন। 

উরফায় অবস্থিত গির্জা খৃষ্টান প্রজাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উমাইয়াগণ নিমান করে দেন। আব্বাসী খলিফাদের মধ্যে হারুনুর রশীদ এবং আমীনের সময়ে অনেক গির্জা নির্মাণে রাষ্ট্রীয় ভাবে সাহায্য দেওয়া হয় এবং অনেক গির্জাকে মেরামত করা হয়। 

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, 
আয়াসোফিয়ার ক্ষেত্রে আসলে…………
অনেক প্রাচীন সময়ে নির্মাণ হওয়ার পরেও আয়াসোফিয়া এখনো প্রথম দ্বীনের মত দণ্ডায়মান। হযরত পয়গাম্বর (সঃ) এর সময়কাল থেকে নিয়ে ইস্তানবুলের বিজয় পর্যন্ত ইসলামী সভ্যতার, ইসলামী ফিকহ কর্তৃক ইবাদতগাহের বিধান সম্পর্কিত উদ্ভাবিত মূলনীতির সবচেয়ে অনুপম বাস্তবায়ন হয়েছে আয়াসোফিয়ায়। এই দৃষ্টিকোন থেকে এরকম আর কোন উপমা কোন ইবাদতগাহের ক্ষেত্রে নেই। একটি সভ্যতার অপর একটি সভ্যতা থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে প্রাপ্ত একটি ইবাদাতগাহকে কিভাবে রক্ষা করতে এর অনুপম উপমা হল এই আয়াসোফিয়া। 
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, এই প্রাচীন ইবাদতগাহের নির্মাতাগণ সকল কিছুকে শুন্য থেকে সৃষ্টিকারী এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্য নির্মাণ করেছিলেন। সকল ঐতিহাসিকগণ এই বিষয়ে একমত। মূলত এই মহান উদ্দেশ্য, মহান সেনা নায়ক রাসূল (সঃ) যে সুসংবাদে ধন্য সেনাপতি ফাতিহ সুলতান মেহমেদের ১৪৫৩ সালে ইস্তানবুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে কোন প্রকার বিরতি না দিয়ে বিগত শতাব্দীর প্রারম্ভকাল পর্যন্ত জারী ছিল। 
ফাতিহ সুলতান মেহমেদ, ইস্তানবুল বিজয় করার অব্যবহিত পরেই তার প্রচারিত আমাননামার (নিরাপত্তানামা) মাধ্যমে ইস্তানবুলে বসবাসকারী অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরকে তাদের বিশ্বাসে, ইবাদতে এবং জীবনযাপনের ক্ষেত্রে স্বাধীন ঘোষণা করেন। “ আমরা আমাদেরকে যেভাবে রক্ষা করি তোমাদেরও সেইভাবেই রক্ষা করব” এই ঘোষনা দিয়ে তাদের ইবাদতগাহ সহ তাদের জান মালের নিরাপত্ত্বা দেন। কিন্তু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া, উপরে উল্লেখিত মহান উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করে সেটাকে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের একটি ইবাদতগাহ হিসেবে উম্মাহর কাছে আমানত দেন। এটি মসজিদ হিসেবেই টিকে থাকতে হবে এই শর্তে তিনি আয়াসোফিয়াকে ওয়াকফ করে দেন। ওয়াকফের আইন বিশ্বজনীন। নতুন, পুরাতন, উসমানী, রিপাবলিক বলে কিছু নেই। ওয়াকফ ওয়াকফই। এই আইন পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই। 

বিজয়ের পূর্বের সময়ে মাঝে মধ্যে এই স্থাপনাটি নিজেদের মানুষ দ্বারাই কয়েকবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। কিন্তু আমাদের জাতি এই অনুপম ইবাদতগাহটিকে অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করেছে। নাম পর্যন্ত পরিবর্তন করার প্রয়োজনবোধ করেননি! মিমার সিনান এই স্থাপনায় তাওহীদের প্রতীক মিনার সংযোজন করেন এবং শত শত বছর ধরে মু’মিনদের দ্বারা মহান প্রভু আল্লাহকে দেওয়া সিজদা সমূহ এই স্থাপনার প্রথম প্রতিষ্ঠাতাদের মহান উদ্দেশ্যকে সঞ্জীবন করে রেখেছিল এবং এই স্থাপনার ইবাদতগাহের মর্যাদাকে ধরে রেখেছিল। 

এই অসাধারণ স্থাপনাটিকে সব সময়ে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। কিবলার দিককার দুইটি ফিগার ছাড়া ভেতরের অন্যান্য ফ্রেস্ক, মোজাইক এবং স্থিরচিত্র সমূহতে আধুনিক সময়ের আগপর্যন্ত হাত দেওয়া হয়নি। কাদিযাদেলি আন্দোলনের পূর্ব পর্যন্ত এই সকল বিষয় নিয়ে কোন প্রকার আলোচনা পর্যন্ত কেউ তুলেনি। আওলিয়া চেলেবি কর্তৃক কয়েক শতাব্দী পরে লেখা সেয়াহাত নামায় আয়াসোফিয়ার প্রতিটি ছবিকে নিজে দেখে সেগুলোর বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। মেরামত করার সময় শিল্প এবং ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট সমূহের প্রতি খেয়াল রেখে তদনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করেন। আর এই সকল মেরামত কাজ তদারকি করেন তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে সেরা স্থপতিগণ। 
আয়াসোফিয়া শুধুমাত্র একটি মসজিদই ছিল না, এটাকে কেন্দ্র করে এর আশে পাশে ফিকহ, ইলমূল কালাম, গণিত ও এস্ট্রনমি নিয়ে অনেক বড় বড় জ্ঞানের কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। জ্ঞান ও হিকমাহর কেন্দ্রস্থল হিসেবে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। 
প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে ১৯৩৪ সালে মেরামতের করার কারণ দেখিয়ে আয়াসোফিয়াকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্য একটি সিন্ধান্তের মাধ্যমে আয়াসোফিয়াকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়। এই সিধান্ত ছিল একই সাথে ইবাদতগাহের বিধান এবং ওয়াকফ আইনের বিরোধী একটি সিধান্ত। এই সিধান্তটি উম্মাহকে দারুণ ভাবে ব্যথিত করেছিল। 
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যখন আয়া সোফিয়াকে খুলে দেওয়ার সিধান্ত নেওয়া হয় তখন থেকে পাশ্চাত্যসহ আরও অনেক জায়গায় লেখালেখি ও আলাপ আলোচনা শুরু হয় যে যে গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করা হচ্ছে। তাদের এই দাবী মোটেও সঠিক নয়, আয়াসোফিয়া দীর্ঘ পাঁচশত বছর ধরে মসজিদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল, তাই এটাকে পুনরায় জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। এই বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। গির্জা থেকে মসজিদ নয় বরং যাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আয়াসোফিয়াকে ইসলামের একটি ইবাদতগাহ হিসেবে নতুন করে ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়াটাকে বিশ্বব্যাপী সংকট সৃষ্টি করবে এবং মুসলমানদের এই ন্যায্য দাবিটি সম্ভাব্য আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসভ্যতার সংঘাতের সংকেত হিসেবে দেখা ভূল। যে সভ্যতা তার উন্মেষকাল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত সবসময় সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকদেরকে তাদের ধর্ম কর্ম পালনে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিয়েছে তারা এই বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে। 
দীর্ঘ ৮৬ বছর ধরে যে স্থানটি থেকে মুসলমানদেরকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল সেটিকে পুনঃরায় ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়ায় সমগ্র উম্মাহ যে পরিমাণে খুশি হয়েছে তা নিঃসন্দেহে আমাদের সকলের জন্য আনন্দের। আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধারা সমূহ আয়াসোফিয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে এবং এই সিধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। 
আমাদের অন্যান্য ইবাদতগাহের মত আয়াসোফিয়াও শুধুমাত্র প্রশান্ত আত্মার মু’মিনদের জন্য নয়, সকল ধর্মের সকল মানুষের জন্য সব সময় খোলা থাকবে। আয়াসোফিয়ায় যারা যিয়ারতের জন্য এসে থাকেন তাদেরকে মেহমানদারীর জন্য আমাদের সভ্যতার সন্তানরা সব সময় প্রস্তুত এবং এটা সব সময় তারা তাদের কাজের মাধ্যমে প্রমানও দিয়েছেন। 

এই সকল কারণে আয়াসোফিয়াকে পুনঃরায় ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। আমাদের জাতি এবং সমগ্র উম্মাহর আবেগ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য এই সিধান্তটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আমি আমার কথা শেষ করার পূর্বে বলতে চাই যে, 
মু’মিনদের উপর আয়াসোফিয়ার হক্ব নতুন করে শুরু হচ্ছে। আয়াসোফিয়ার সবচেয়ে বড় হক্ব একে পুনরায় মসজিদ হিসেবে শুরু করার মাধ্যমে শুরু হল। শুধুমাত্র আয়াসোফিয়াকে অফিসিয়ালি খুলে দেওয়ার মাধ্যমেই আমাদের উপর আয়াসোফিয়ার হক্ব আদায় হবে না। আমরা যদি এই সকল কাজকেই যথেষ্ট মনে করি তাহলে আমাদের হাজার হাজার মসজিদের সাথে শুধুমাত্র আয়াসোফিয়া যুক্ত হবে আর কিছু না। আমরা যদি আমাদের উপর আয়াসোফিয়ার হক্বকে আদায় করতে চাই তাহলে আমাদের উচিত হবে আবাল,বৃদ্ধা, বনিতা সকলেই মিলে ইখলাসে সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সেখানে আদায় করা। আয়াসোফিয়াকে শুধুমাত্র একটি ইবাদতগাহ হিসেবে নয় জ্ঞান, হিকমা, ওয়াহদাত (একতা) এর স্থানে পরিণত করতে পারি তাহলে এর আসল হক্ব আদায় করা হবে। এই হক্বকে কেবলমাত্র মিহরাব থেকে ইখলাস ও আন্তরিকতা, মিম্বার থেকে জ্ঞান ও হিকমত, কুরসি থেকে আখলাক ও আদালত এর প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে, মিনারা থেকে হক্ব, হাকিকত এবং রহমতের দিকে আহবান করার মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব। আমরা যদি এই সকল কাজ করতে পারি তাহলে আয়াসোফিয়া সত্যি তখন খুশি হবে। খোলে দেওয়াটাই মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হল কিয়ামত পর্যন্ত এর রূহকে জাগ্রত করে রাখা এবং একে আবাদ করা। আমরা যদি তাকে ইহইয়া ও ইমার করতে পারি তাহলে সেও আমাদেরকে অবশ্যই পুনর্জাগরনের রূহ অর্জনে সাহায্য করবে। 

সমগ্র উম্মাহর জন্য মোবারক হোক।

আমাদের ইবাদতগাহ সমূহের মত আমাদের অন্তর সমূহও আবাদ হোক।

মহান আল্লাহ আয়াসোফিয়ার মত আমাদেরকেও আমাদের মূলে ফিরে যাওয়ার তওফিক দান করুন। 

আমীন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।