আমাদের বিশ্বাসের জগতে কঠিন সময়ের প্রভাব

ইসলাম গাইড

প্রফেসর ডঃ মেহমেদ গরমেজ |

প্রিয় ভাইয়েরা, আমাদের এই ইসলামী চিন্তা ইন্সটিটিউটের ধারাবাহিক ক্লাসের আজকের এই তৃতীয় ক্লাসে আপনাদের নিকট থেকে আসা প্রশ্ন, চাহিদার আলোকে কঠিন সময় সমূহ আমাদের বিশ্বাসে কোন ধরণের প্রভাব ফেলে সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। এই কঠিন সময়টি আমাদের অর্থনৈতিক জীবনকে কিভাবে প্রভাবিত করবে? আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনকে, রাজনীতিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে কিভাবে প্রভাবিত করবে সেই বিষয় নিয়ে গবেষণা করছে। বিশেষ করে এই কঠিন সময় আমাদের বিশ্বাসকে কিভাবে প্রভাবিত করবে সেটা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যুবক ভাইদের এই বিষয় নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে।

আমি এই বিষয়টিকে উসূল ও মেথডোলজির আলোকে এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।

প্রিয় ভাইয়েরা,
ইতিহাস আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরণের মুসিবতসমূহ অর্থাৎ মহামারী, ভুমিকম্প, ক্ষরা এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ সমূহ ব্যক্তি ও সমাজের বিশ্বাস সমূহে বড় ধরণের আঘাত নিয়ে আসে। আমাদের ধর্মীয় জীবনেকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই বিষয়টি ইতিহাস দ্বারা প্রমানিত।
কিন্তু ইতিহাস দ্বারা এটাও প্রমানিত যে, যাদের ধর্মীয় জীবন মজবুত, বিশ্বাস অনেক শক্তিশালী, আখলাকী দিক থেকে মযবুত; সেই সকল সমাজ এই ধরণের আঘাত সমূহের দ্বারা সবচেয়ে কম প্রভাবিত হয়েছে। এই ধরণের বড় বড় মহামারীর ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে এই ধরণের বড় মহামারী সমূহ ইতিহাসের গতিপথের পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে।
এই ধরণের ঘটনাসমূহ চিন্তার পরিকল্পনায়, চিন্তার জগতে, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনেক বিস্তৃত জিজ্ঞাসাবাদের জন্ম দিয়েছে। এমনকি প্রাচীন সকল ধারণা সমূহ, বিশ্বাস সমূহ মাঝেমধ্যে পরিবর্তিতও হয়েছে। নতুন নতুন বিষয়ের জন্ম দিয়েছে। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ধরণের খুরাফা (কুসংস্কার) সৃষ্টি হয়েছে। এর দুইটি উদাহরণ আমরা তুলে ধরতে পারি।
একটি হল Plague of Justinian নামক বিখ্যাত মহামারী। অপরটি হল ইউরোপের Black Death।

রাসূলে আকরাম (সঃ) এর জন্মের ৩০ বছর পূর্বে ৫৪১ খ্রিষ্টাব্দে সমগ্র দুনিয়াকে প্রভাবিতকারী Plague of Justinian ঐ সময়ের দুইটি বড় বড় সাম্রাজ্য তথা রোমান সাম্রাজ্য এবং পারস্য সাম্রাজ্যকে পতনের পর্যায়ে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে ইসলামের রহমতের বানীর প্রচারের সাথে নতুন একটি দুনিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।

দ্বিতীয়টি হল ব্ল্যাক ডেথ
চতুর্দশ শতাব্দীতে সমগ্র ইউরোপকে পরিগ্রহ করে এবং সমগ্র ইউরোপের চল্লিশ ভাগ এবং তার চেয়েও বেশী মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং ইউরোপীয় মধ্য যুগের অন্ধকার পর্যায়ের সমাপ্তি টেনে আনে। ঐ মহামারী, ইউরোপের মধ্যযুগে জারী থাকা চিন্তার মহামারী সমূহকে, অন্ধকার যুগকে বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আবিষ্কৃত একটি ওষুধ কিংবা টিকা, ধর্ম বিশ্বাস সমূহকে প্রভাবিত করেছিল। বছরের পর বছর ধরে গির্জা সমূহ অসুখ বিসুখ সম্পর্কে যে কথামালা তৈরি করেছিল তা মানুষের কাছে অর্থহীন হয়ে উঠে।

এই জন্য আমি আমার প্রথম দারসেও বলেছি। এই বিষয়ে যেন আমরা এমন কোন কথা না বলি ভবিষ্যতে যার জন্য আমাদেরকে আমাদের বিবেকের কাছে লজ্জিত হতে হয়। আমাদের আলেম উলামাগণ যেন তাড়াহুড়া করে কোন কথা না বলেন। আর যদি আমরা আল্লাহর দ্বীনের নামে কথা বলি তাহলে তো কোন কথাই নেই। মহান আল্লাহ মানুষের সামাজিক জীবনে এবং এই মহাবিশ্বে যে নিয়ম নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেগুলোকে এবং সুন্নাহতুল্লাহকে মূল্যায়ন করার সময় আরোও অনেক বেশী সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

রাসূলে আকরাম (সঃ) এর দেড় বছর বয়সী পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সঃ) খুবই ব্যথিত ছিলেন। তার চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু ঝরছিল এবং সমগ্র মদীনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। একই দিন আবার সূর্যগ্রহণ হচ্ছিল। এটা ইতিহাসের দ্বারাও প্রমানিত।
সাহাবীগণ, সূর্য গ্রহণকে ইব্রাহীমের মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত করেন এবং বলাবলি শুরু করেন যে, সূর্য এই শিশু সন্তানের, আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর শোক সইতে পারে নাই, তাই সূর্য এমন হচ্ছে। এটা রাসূলের (সঃ) এর কানে গেলে তিনি সকল সাহাবীকে একত্রিত করে একটি খুতবা দেন এবং এই ভুলকে সংশোধন করার লক্ষ্যে তিনি বলেন,
أيها الناس إن الشمس و القمر آيتان من آيات الله
হে মানুষগণ! চন্দ্র এবং সূর্য মহান আল্লাহর দুইটি নিদর্শন।

لا ينخسفان لموت أحد ولا لحياته
কারোর মৃত্যুর জন্য কিংবা কারোর জীবনের জন্য কক্ষনোই সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্র গ্রহণ হয় না।

فإذا رئيتم ذلك فأدع الله و كبره و صلوا و تصدقوا
যখন তোমরা এমন কিছু দেখবে তখন আল্লাহর দিকে রুজু হবে এবং তার কাছে দোয়া করবে। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করবে, নামাজ আদায় করবে এবং সাদাকা দিবে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই রকম কঠিন সময়ে বিশেষ করে যুবক বন্ধুগণের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা আমি জানি। আমার কাছে যুবক বন্ধুদের নিকট থেকে অনেক প্রশ্ন আসে, সেই সকল প্রশ্ন দেখলেই এই বিষয়টি বুঝা যায়। আমাদের যুবকগণ এই প্রশ্ন করেন, উস্তাজ, আল্লাহ যদি রাহিম-ই হয়, আল্লাহ যদি ন্যয়পরায়নই হয়, এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আল্লাহ আছেন এবং তিনি মুতলাক (Absolute) রহমতের মালিক। আল্লাহ মুতলাক আদালতের অধিকারী। আল্লাহ মুতলাক কুদরতের অধিকারী। তাহলে কেন তিনি এই সকল খারাপ বিষয় সমূহের অনুমতি দিয়ে থাকেন?
যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে মন্দ জিনিসের অস্তিত্ব কেন আছে?

সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা যেহেতু তিনি তাহলে তিনি কেন সকলকে ক্ষতিকারী এমন একটি ভাইরাস সৃষ্টি করলেন? যদিও কেউ এটাকে বায়োলজিক একটি অস্ত্র হিসেবে ল্যাবরেটরিতে উৎপাদন করেও থাকে তবে আল্লাহ কেন এমন একটি বিষয়ের অনুমতি দিলেন?
এক অর্থে বলতে গেলে, এগুলো অনেক প্রাচীন প্রশ্ন। দুনিয়াতে মন্দ ও খারাপ জিনিস কেন রয়েছে? দুঃখ, দুর্দশা, ব্যাথা, বেদনা কেন আছে? নিষ্পাপ শিশুরা কেন মৃত্যুবরণ করে? মূলত এই প্রশ্ন সমূহ সকল ধর্মের জন্যই অনেক কঠিন প্রশ্ন। এই সকল কঠিন প্রশ্ন সমূহ এই ধরণের কঠিন সময়ে আরও অনেক বেশী পরিমাণে করা হয়ে থাকে এবং অনেক মানুষ এই সকল প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব পেয়ে হক্ব এবং সঠিক বিষয়কে খুঁজে পেয়েছেন আবার কেউ কেউ এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসকে হারিয়ে ফেলেছেন। এর সকল বিষয়ের সাথে সাথে খারাপ এবং মন্দের সমস্যার উত্তর খুঁজে না পাওয়ার কারণে যারা নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসকে হারিয়েছেন, তারা কেউই আবার এই সকল মন্দ ও খারাপ বিষয়ের ব্যপারে কোন সমাধান খুঁজে বের করতে পারেননি।

প্রথমত যুবকদের এই সকল কঠিন প্রশ্ন সমূহ করা এবং এই ধরণের আত্মজিজ্ঞাসা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাদের এই সকল প্রশ্ন সমূহকে গ্রহণ করা এবং সঠিক জবাব দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালানো আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

এই ধরণের প্রশ্ন করো না তাহলে গুনাহ হবে, এ জাতীয় কথা যুবকদেরকে বলবেন না। যুবকদের এই সকল প্রশ্নকে আমি ইব্রাহীমি আচরণ হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকি। এগুলা না ডেইজিম (Deism), না এথেইজ (atheism), না অন্য কিছু।
এই সকল প্রশ্ন করা স্বাভাবিক এবং এক অর্থে মানবিক। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর নবী এবং তাওহীদি উম্মতের অগ্রপথিক। কিন্তু তিনি আমাদের রবকে প্রশ্ন করে বলেন,

رَبِّ اَرِن۪ي كَيْفَ تُحْـيِ الْمَوْتٰىۜ
হে প্রভু, তুমি আমাকে দেখাও তুমি কিভাবে মৃতকে জীবিত করো? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইব্রাহীম (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন,

اَوَلَمْ تُؤْمِنْ
তুমি কি বিশ্বাস করো না? ইব্রাহীম (আঃ) এই জবাব দেন,

بَلٰى وَلٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْب۪يۜ
অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু আমার অন্তর যেন প্রশান্তি পায় এই জন্য জিজ্ঞাসা করছি। (বাকারা, ২৬০)

মূলত আজকের যুবকরাও আমাদেরকে এই প্রশ্ন করে; উস্তাজ বিশ্বাস করি, কিন্তু আমার আকল যেন নিশ্চিন্ততা লাভ করে এই জন্য প্রশ্ন করি। এই জন্য আমাদের এমন উত্তর দিতে হবে যেন তাদের কালব এবং আকল প্রশান্তি লাভ করে।

প্রিয় বন্ধুগণ,
বর্তমান সময়ের যুবকদেরকে এই কথা বলতে পারবেন না যে, আকলকে এক কিনারায় রেখে দিয়ে ঈমান আনোয়ন কর। আমাদের এমন একটি ঈমানের ভাষায় কথা বলতে হবে যাতে করে তাদের আকল এবং কালব উভয়কেই নিশ্চিন্ততা দান করবে। এখন আমি আমার যুবক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই।

প্রিয় যুবক-যুবতীরা,
প্রথমত এটা তোমাদের জানতে হবে যে; মহাসৃষ্টির উদ্দেশ্য, সৃষ্টির হিকমাহকে বুঝা ব্যতীত, জগতসমূহের ব্যপারে সঠিক একটি ধারনা অর্জিত হওয়া ছাড়া এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া, এই দুনিয়াতে কেন মন্দ, খারাপ, দুঃখ, ব্যাথা রয়েছে সেটাকে বুঝা যাবে না। সকল দার্শনিকগণ ইতিহাস জুড়ে এই সকল বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। মহান আল্লাহর আসমাউল হুসনা সমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিফাত রয়েছে। একটি নাম রয়েছে, সেটা হল, আল হাকীম। অর্থাৎ তিনি, সকল কিছুর মধ্যে এবং সকল আদেশের মধ্যে হিকমত রেখে দিয়েছেন। এই দৃষ্টিকোন থেকে তার সৃষ্টির মধ্যে এবং দ্বীনের মধ্যে عَبَث (আবাছ) বলতে কিছু নেই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা মু’মিনুনে বলেন,

اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثاً
তোমরা কি মনে করেছিলে আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি?

وَاَنَّكُمْ اِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ
এবং তোমাদের কখনো আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না? তোমরা কি ভেবেছ আমাদের দিকে তোমাদের ফিরে আসতে হবে না? (মু’মিনুন, ১১৫)

এখানে عَبَث (আবাছ) পরিভাষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আল্লাহ এখানে বলছেন আমি তোমাদের عَبَث (আবাছ) সৃষ্টি করিনি। কোরআনে عَبَث (আবাছ) পরিভাষাটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে যথাঃ লাগবু (لغو), লাহবু ( لهو) ও সাহবু ( سهو); অর্থাৎ অর্থহীন, ফায়দাহীন এবং উদ্দেশ্যহীন।

প্রিয় যুবকগন,
এর আলোকে আল্লাহর সৃষ্টিতে, মহাবিশ্বে এবং আমাদের দ্বীনের মধ্যে ফায়দাহীন, উদ্দেশ্যহীন এবং অর্থহীন কোন বিষয় নেই। প্রথমেই আমি বলতে চাই, এই মহাবিশ্বে মুতলাক (Absolute) খারাপ বলতে কোন কিছু নেই। আপেক্ষিক খারাপ বিষয় সমূহ রয়েছে। কিন্তু মুতলাক (Absolute)বা পরম খারাপ কোন কিছু নেই। এমনকি খারাপ তার নিজের স্বত্বায় অস্তিত্বশীল নয়। সে নিজের জাতের মাধ্যমে অস্তিত্ববান নয় এবং কোন খারাপকেই সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। কিন্তু তিনি তার সীমানাহীন হিকমতের মাধ্যমে, সাময়িক সময়ের জন্য তিনি তার সৃষ্টির মধ্যে খারাপ বিষয়ের অবস্থানকে অনুমতি দেন।
তবে এর পেছনে কারণ সমূহও রয়েছে। অন্ধকার ছাড়া যেমন আমরা আলোকে বুঝতে পারব না। তেমনি ভাবে বাতিল না থাকলে হক্বকেও চিনতে পারব না। যুলুম না থাকলে আদালতকে উপলব্ধি করতে পারব না। খারাপ না থাকলে ভালোকেও অনুধাবন করতে পারব না। কিন্তু যেকোন যুলুমের কারণকে, যে কোন বাতিলের অস্তিত্বকে এবং যে কোন খারাপ বিষয়কে সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা সঠিক নয়।

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلاًۚ
কোন কিছুই তিনি বাতিলভাবে সৃষ্টি করেননি (আলে ইমরান, ১৯১)।

আমাদের রব কোরআনের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই ভাবে বলেনঃ

وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ اَحَداً۟
তোমার রব কারোর প্রতি যুলুম করেন না। (কাহফ, ৪৯)

وَلَا تُظْلَمُونَ فَت۪يلاً
তোমাদের উপর বিন্দুমাত্র যুলুমও করা হবে না। (নিসা,৭৭)

وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَب۪يدِ
তোমার রব তার বান্দাদের উপর কক্ষনো জুলুম করেন না। (ফুসসিলাত, ৪৬)

এছাড়াও সূরা শুয়ারাতে মহান আল্লাহ আমাদের উপর আগত মুসিবত সমূহের কারণসমূহ বলতে গিয়ে বলেন,

وَمَٓا اَصَابَكُمْ مِنْ مُص۪يبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ اَيْد۪يكُمْ وَيَعْفُوا عَنْ كَث۪يرٍ
তোমাদের ওপর যে মসিবতই এসেছে তা তোমাদের কৃতকর্মের কারনে এসেছে ৷ বহু সংখ্যক অপরাধকে তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন৷ (শুরা,৩০)

আমাদের প্রিয় নবীর নিকট থেকেও সহীহ একটি সনদের মাধ্যমে এসেছে তিনি রবকে ডাকার সময় এই ভাবে বলতেন,

لبيك وسعديك
হে প্রভু আমি কেবলমাত্র তোমার দিকে অনুগামী হয়েছি।

والخير كله في يديك
সকল মঙ্গল ও কল্যাণ তোমার হাতে।

والشر ليس اليك
কোন প্রকার খারাপ ও মন্দ বিষয় তোমার কাছ থেকে নয়, তোমার সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। এই দৃষ্টিকোন থেকে

خيره وشره من الله
এই বাক্যটি সৃষ্টিগত (বান্দার কর্মের কারণে) দিক থেকে, সরাসরি ইসনাদগত (মূলগত) দিক থেকে নয়। মহান আল্লাহ এই সকল খারাপ বিষয়ের সৃষ্টি করেছেন বলে (নাউযুবিল্লাহ) বিষয়টি এমন নয়।

প্রিয় যুবক ভাইয়েরা,
পৃথিবীতে যদি মন্দ এবং খারাপ বিষয় সমূহ না থাকত তাহলে সৃষ্টির উদ্দেশ্য হারিয়ে যাবে। দুনিয়াতে আদালত, মারহামাত এবং ভালো বিষয় সমূহকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যায়, জুলুম, মন্দ এবং অবিচারকে দূর করাকে মানুষের অন্যতম দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবস্থা যদি তাই হয় তাহলে আমরা যদি ভালো কাজকে পরিত্যাগ করে, মন্দকে প্রতিহত না করে পরে আল্লাহর দিকে ফিরে বলি, তুমি কেন মন্দ জিনিস সমূহ সৃষ্টি করলে?
-কেন তুমি আমাদের উপরে বিপদ দিলে?
-কেন তুমি এই সকল খারাপ বিষয় সমূহকে প্রতিহত করছ না?
-আমাদেরকে কি এই কথা বলার অধিকার আছে?
দুনিয়াতে যদি মন্দ ও খারাপ না থাকত তাহলে মানুষকে ইচ্ছা শক্তি দেওয়া হত না, মানুষকে কাজের স্বাধীনতা দেওয়া হত না। মানুষের ভালো ও খারাপ হওয়া এমনকি মু’মিন ও কাফির হওয়া তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির উপর ছেঁড়ে দিতেন না। কোন পছন্দ ও অপছন্দের অধিকার দিতেন না।
মানুষকে সৃষ্টি করার অন্যতম একটি হিকমত হল পরিক্ষা। এই ‘পরিক্ষা’ শব্দটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই দুনিয়া হল পরিক্ষার দুনিয়া। হিসাব এবং পুরষ্কার কিংবা শাস্তির জায়গা নয়।
এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে; পরীক্ষায় ফেল করার চেয়েও বিপদজনক একটি বিষয় রয়েছে।
– কি সেটা?
সেটা হল আমরা যে পরীক্ষার মধ্যে আছি এটাক কবুলই না করা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা মূলকে বলেনঃ

اَلَّذ۪ي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيٰوةَ لِيَبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلاًۜ
অর্থঃ আল্লাহ জীবন এবং মৃত্যুকে কেন সৃষ্টি করেছেন জানেন? কাজের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। (মূলক, ২)

একই বিষয়টি অন্য এক সুরায়, সূরা আ’রাফে বলা হয়েছে,

وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّـَٔاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
অর্থঃ আর আমি ভাল ও খারাপ অবস্থায় নিক্ষেপ করার মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষা করতে থাকি, হয়তো তারা ফিরে আসবে যেন তারা ফিরে আসে। যেন তারা ভালো, হক্ব এবং হাকিকতের দিকে ফিরে আসে। (আ’রাফ, ১৬৮)
সূরা আম্বিয়ায় একই বিষয়টি এইভাবে বলা হয়েছে;

وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةًۜ
আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি,

وَاِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
শেষ পর্যন্ত তোমাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে৷ (আম্বিয়া, ৩৫)

অন্য একটি বিষয় হল, দুনিয়াতে এমন অনেক কিছু আছে যা আমাদের দৃষ্টিতে খারাপ হলেও এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। মুতলাক (Absolute) পরম খারাপ নাই বলতে আমি এই বিষয়টিই বুঝিয়েছি।
আমাদের পূর্বের দারসেও উল্লেখ করেছি এমন একটি আয়াত আমি পুনরাবৃত্তি করতে চাইঃ

وَعَسٰٓى اَنْ تَكْرَهُوا شَيْـٔاً وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْۚ وَعَسٰٓى اَنْ تُحِبُّوا شَيْـٔاً وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْۜ
অর্থাৎঃ হতে পারে কোন জিনিস তোমরা অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য উত্তম। হতে পারে কোন জিনিস তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ ৷ (বাকারা,২১৬)
আমরা ব্যক্তি হিসেবে কিংবা সমাজ হিসেবে যে সকল অসুখ বিসুখের মুখোমুখী হই একই ভাবে সেগুলোরও একটি অর্থ রয়েছে। একটি উদ্দেশ্য আছে, একটি হিকমত এবং একটি ফিলোসফি রয়েছে। অসুস্থতাসমূহও মূলত মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্যের সেবা করে। অসুস্থতাসমূহ ইলাহী সতর্কতা, যা আমাদেরকে সৃষ্টির হিকমতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

অসুস্থ না হলে আমরা সুস্থতার মূল্য ও মর্যাদাকে বুঝতে পারি না। সুস্থতা কি জিনিস আমরা বুঝতে পারতাম না। জীবনে যদি ভয়-ভীতি, সন্দেহ না থাকে তাহলে নিরাপত্ত্বা কি সেটার মূল্য বুঝতে পারব না। অসুস্থতাসমূহ, শুধুমাত্র ইলাহী একটি সতর্কবানীই নয়। কোন কোন বান্দার জন্য রহমত স্বরূপ। কোন কোন বান্দার গুনাহের কাফফারা। এর প্রতিটির দলীল হাদীস শরীফ সমূহে রয়েছে।
কোন কোন বান্দার সম্মান ও মর্যাদাকে বুলন্দ করার জন্য, মাঝে মধ্যে অসুস্থতা, মানুষকে আরও অনেক বড় মুসিবত সমূহ থেকে রক্ষা করার জন্য। যারা নিজেকে এবং নিজের রবকে ভুলে গিয়েছে তাদের তাদের রব ও নিজেদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এসে থাকে। মাঝে মধ্য পদ-পদবী, মাল-মূলকের মত আরও অন্যান্য অনেক বিষয় যেগুলোকে আমরা অনেক মূল্যবান মনে করে থাকি। সেগুলোর যে আসলে কোন মূল্য নেই সেটাকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। মাঝে মধ্যে একটি নিঃশ্বাসের মত যেটাকে আমরা খুব বেশী মূল্য দেই না, এমন অনেক মূল্যবান বিষয়ের মূল্যকে বুঝানোর জন্য অসুস্থতা এসে থাকে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

বিগত দুইশত বছরকে ইবরাতের (শিক্ষা) সাথে মূল্যায়ন করা উচিত। অনেক বেশী করে ভাবা প্রয়োজন। বিগত দুইশত বছর ধরে একটার পর একটা বিপ্লব হয়েই চলছে। আর এই সকল বিপ্লবে প্রকৃতিকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করেছি। আমরা এমন এক দুনিয়ায় বসবাস করছি , যে দুনিয়া আমাদের তৈরিকৃত রাসায়নিক অস্রের কারণে হুমকীর মূখে। এমন এক দুনিয়ায় বসবাস করতেছিলাম যে দুনিয়া মাসুমদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে এসেছিল। দুনিয়াতে যে ফাসাদ সৃষ্টি করা হয়েছে তা যেন যথেষ্ট নয়, এমন এক মানব গোষ্ঠী রয়েছে যারা এখন মহাকাশেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছে। কিন্তু এমন এক দুনিয়ায়, এমন এক মানবতাকে সামান্য ভাইরাস কত বড় শিক্ষাই না দিচ্ছে। আমরা সবাই এর শিকার।

প্রিয় বন্ধুগণ,
ইতিহাসের অন্যান্য ঘটনা প্রবাহের মত, এই কঠিন সময়ের পরে সমগ্র মানবতা নতুন একটি অর্থের সন্ধানে ছুটে চলবে। আজকে আমরা মু’মিন হিসেবে এই কঠিন সময়ে আমরা সকলেই আমাদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের নিজেদেরকে এবং আমাদের সন্তানদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশকে, জাতিকে আমাদের বাসায় অবস্থান করে রক্ষা করছি। আমরা সবাই কোয়ারান্টাইনের মধ্যে আছি। আমরা এই কঠিন সময়কে ব্যবহার করে আমাদের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারি।
রাসূল (সঃ) এর অসাধারণ একটি কথা রয়েছে,

ان قامت الساعة وفي يد احدكم فسيلة
যদি কিয়ামতও চলে আসে আর তোমাদের কারোর হাতে একটি চারা থাকে

فان استطاع ان لا تقوم حتي يغرسها فليغرسها
যদি নিজের জায়গা থেকে না উঠে সেই চারাকে বপন করার শক্তি থাকে তাহলে সে যন তা বপন করে।

আজকে সকল চারা বপন করার সময়। বন্ধুগণ এখানে চারা বলতে শুধুমাত্র গাছের চারাকেই বুঝানো হয় নি। আমরা যাদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার দিতে পারিনি তাদেরকে অধিকার দেওয়ার জন্য মারহামাতের চারা বপন করা। আজ ফকির, মিসকিন ও ইয়েতিমের পাশে দাঁড়ানোর সময়।
এই সময়কে যেন আমরা অযথা নষ্ট না করি। বিশেষ করে আমার যুবক বন্ধুদেরকে পুনরায় বলতে চাই;

প্রিয় যবুক-যুবতীরা,

জীবনকে ধ্বংসকারী তিনটি অবসর রয়েছে। আর সেগুলো মানুষের জীবনে একবারই আসে। আর সেগুলোকে যদি ভালোভাবে কাজে লাগানো না যায় তাহলে যুবকদের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। সেগুলো হল,
-অবসর সময়,
-অবসর মস্তিস্ক,
-আর অবসর কালব।
তোমাদের একজন বন্ধু হিসেবে তোমাদেরকে অনুরোধ করছি, দয়া করে এই তিনটি অবসরকে জীবনে স্থান দিবে না। আমরা তোমাদের জন্য সুন্দর একটি দুনিয়া তৈরি করতে পারিনি, কিন্তু, যদি এই তিনটি অবসরকে পূর্ণ করতে পারো, তাহলে তোমরা তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর একটি দুনিয়া রেখে যেতে পারবে।
তোমাদের জীবনে যেন অবসর সময় বলতে কিছু না থাকে। তোমাদেরকে হাকীকতের পথে থাকতে হবে। যে সকল যুবক হাকীকতের পথে থাকে তারা তাদের জীবনকে ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখতে পারে না। সেটাকেও ব্যবহার করবে তবে সঠিক ভাবে ব্যবহার করবে।
সময় অপচয় করা,একজন যুবকের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয়।

একজন যুবকের জন্য দ্বিতীয় বিপদজনক বিষয় হল অবসর মস্তিস্ক, এই ফাঁকা মস্তিষ্ককে জ্ঞান, হিকমত এবং মারেফতের মাধ্যমে পূর্ণ করার উপযুক্ত সময় হল এটা।সকল প্রকার উপকারী জ্ঞানের পেছনে আমাদেরকে ছুটে চলতে হবে।

তৃতীয় যে জায়গাটিকে ফাঁকা রাখা যাবে না সেটি হল আমাদের কালব। আমাদের কালবকে যেন ফানি ( সাময়িক) বিষয় সমূহ দিয়ে পূর্ণ না করি। কালবকে মহান সৃষ্টি কর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভালোবাসায় পূর্ণ করতে হবে। আল্লাহর সকল বান্দাদেরকে ভালোবাসতে হবে। আল্লাহর রাসূল (সঃ) কে প্রশ্ন করা হয় ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইসলাম কি?

تعظيم لئمر الله و الشفقة لخلق الله
তিনি জবাবে বলেন, আল্লাহর আদেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তার সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করা।
সৃষ্টিজগত ও মহাবিশ্বের প্রতি রহমত ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখা। আমরা যেন ভুলে না যাই, কালব কেবলমাত্র আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই প্রশান্তি লাভ করে।

اَلَا بِذِكْرِ اللّٰهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُۜ

প্রিয় বন্ধুগণ,
আমি আমার আলোচনাকে সূরা বালাদের কিছু সতর্কতা মূলক আয়াতকে দিয়ে শেষ করতে চাই। বিশেষ করে কঠিন সময়ে মু’মিনদের প্রতি সূরা বালাদের উপদেশ হল, দুর্গম গিরিপথকে পাড়ি দিতে পারা, কোরআন আমাদেরকে বলে,

فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَۘ
কিন্তু সে দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করার সহস করেনি৷ (বালাদ, ১১)

পরের আয়াতে প্রশ্ন করা হয়েছে কি সেই আকাবা? সেই দুর্গম গিরিপথ আমরা কিভাবে পাড়ি দিব সেই পথ আমাদেরকে দেখিয়ে দেয়। এর জন্য প্রথম পন্থা হল, আমাদেরকে পরিগ্রহকারী সকল ধরণের বন্ধন থেকে মুক্ত করা।

فَكُّ رَقَبَةٍۙ
দাস মুক্ত করা। (বালাদ,১৩)

হিংসা, বিদ্বেষের মত সকল প্রকার ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত করা। শুধুমাত্র আমাদের শরীরকে আক্রমনকারী ভাইরাসই নেই, আমাদের কালবকে আক্রমন কারী, আমাদের রূহ সমূকে দখলকারী ভাইরাসও রয়েছে। সেই সকল ভাইরাস থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা।

দ্বিতীয়ত,

اَوْ اِطْعَامٌ ف۪ي يَوْمٍ ذ۪ي مَسْغَبَةٍۙ
কঠিন সময়ে আমাদের সম্পদ দিয়ে অভাবীদের পাশে দাঁড়ানো এবং ঈমানের পরে

وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِۜ
যারা পরস্পরকে সবর ও ( আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি ) রহম করার উপদেশ দেয় ৷ এই সকল কঠিন বিষয় সমূহকে পাড়ি দেওয়ার জন্য, সূরা বালাদে বর্ণিত তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত থাকা প্রয়োজন। সেই তিনটি বিষয় হল,

প্রিয় বন্ধুগণ,
আমরা আজ যে কঠিন সময় অতিক্রম করছি এই কঠিন সময় আসার পেছনেও তিনটি বড় কারণ রয়েছে,
প্রথমত, মানুষের উপরে কোন শক্তিকে না চেনা ও পরাক্রমশালী হওয়ার প্রতি প্রবল বাসনা।

اَيَحْسَبُ اَنْ لَنْ يَقْدِرَ عَلَيْهِ اَحَدٌۢ
সে কি মনে করে রেখেছে , তার ওপর কেউ জোর খাটাতে পারবে না ?
প্রথম হল এটা, শক্তির বাসনা।

দ্বিতীয়টি হল, গর্বের সাথে সম্পদ ব্যায় করে ভোগবিলাসের বাসনা।

يَقُولُ اَهْلَكْتُ مَالاً لُبَداًۜ
সে গর্ব করে বলে, আমি প্রচুর ধন সম্পদ উড়িয়ে দিয়েছি৷

এবং তৃতীয়টি হল সে ভাবে যে তাকে কেউ দেখবে না, এটা ভেবে তার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়া।

اَيَحْسَبُ اَنْ لَمْ يَرَهُٓ اَحَدٌۜ
সে কি মনে করে কেউ তাকে দেখেনি ?

প্রিয় ভাইয়েরা,
আমি আমার আলোচনাকে সূরা হাদিদের ১৬ নম্বর আয়াত দিয়ে শেষ করতে চাই, আমাদের প্রভুর একটি প্রশ্ন, যা তিনি তার মু’মিন বান্দাদেরকে করেছেন,
اَلَمْ يَأْنِ لِلَّذ۪ينَ اٰمَنُٓوا اَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِاللّٰهِ
“ঈমান গ্রহণকারীদের জন্য, এখনো কি সে সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের মন বিগলিত হবে?”

অনুবাদ: বুরহান উদ্দিন | আঙ্কারা | তুরস্ক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।